বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সমাজব্যবস্থা একান্নবর্তী। এখানে মৌলবাদ, উগ্রবাদ, ধর্মান্ধতা ও ভয়ের সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে জীবনব্যবস্থা আবর্তিত। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আইনের নিয়মকানুনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এ ধরনের ভয়ঙ্কর ব্যাধিকে অনুমোদন দিয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের স্কুলছাত্রী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করে ঘাতক। এতে সারাদেশজুড়ে ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ধর্ষণের মতো এ ধরনের যৌন অপরাধ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই অপরাধবোধে জাতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা অনুভব করে প্রবলভাবে। কিন্তু এমন ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের ঘটনার পর ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী রাজনৈতিক দল হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক মন্তব্য করেন; মেয়েদের প্রথম ঋতুচক্রের পরই বিয়ে দেওয়া হলে আর শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটবে না। এ ধরনের মন্তব্য বর্তমান রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় আরবের আইয়ামে জাহেলিয়াতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বর্তমান বিধিব্যবস্থায়ও যে এ ধরনের বর্বর, উগ্রবাদী ও মৌলবাদী ধর্মীয় শুকরদের আধিপত্য, এটি লজ্জার। এটি সমর্থনযোগ্য নয়। একটি শিশুর মানসিক পরিপক্বতা, শিক্ষা, স্বনির্ভরতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং শারীরিক স্বাস্থ্য বিবেচনা না করে শুধুমাত্র ধর্মের ব্যাখ্যায় এ ধরনের মন্তব্য মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত এ ধরনের ইসলামিক আলেমদের মানসিক ও শারীরিক নগ্নতাকেই প্রকাশ করে।
এ ধরনের পাশবিক মন্তব্য শিশু ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতার মানসিকতাকেই সামনে আনে। যার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় দাঁড়ি-টুপি-ওয়ালা মোল্লাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রতি যে যৌন লালসা, সেটিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। একই সঙ্গে এটি শিশুদের মানুষ হিসেবে নয়, প্রজননক্ষম শরীর হিসেবে দেখার বিষয়টিকে সামনে আনে। শিশু ধর্ষণের সমাধান শিশুদের বিয়ে দেওয়া নয়; সমাধান হলো ধর্ষকদের থামানো। এবং এটি ইসলামের নামে কোনো ব্যাখ্যা কিংবা কথিত যেসব শাস্তির ব্যবস্থা আছে, সেসবের মাধ্যমে নয়। রাষ্ট্রকে তার নিজস্ব আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।





